Skip to main content

Why do human sleep? মানুষ কেন ঘুমায়?

 মানুষ কেন ঘুমায়?

মানুষ ঘুমায় কারণ এটি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। ঘুমের মাধ্যমে আমাদের শরীর ও মস্তিষ্ক পুনরুদ্ধার হয়, স্মৃতিশক্তি সংরক্ষিত হয় এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে।


মানুষ কেন ঘুমায়? 

উত্তর:  বিজ্ঞানের মতে,


১. মস্তিষ্কের পুনরুদ্ধার ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণ


আমাদের মস্তিষ্ক প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তথ্য গ্রহণ করে। ঘুমের সময় এই তথ্যগুলো সংগঠিত হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কে সংরক্ষিত হয়। এ কারণে ঘুম স্মৃতিশক্তি বাড়ায় ও শেখার ক্ষমতা উন্নত করে।


2. শারীরিক পুনর্জীবন ও মেরামত


ঘুমের সময় শরীরে টিস্যু পুনর্গঠন হয়, কোষ মেরামত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। এ সময় গ্রোথ হরমোন নিঃসরণ হয়, যা শিশুদের বৃদ্ধিতে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের পেশি মেরামতে সহায়ক।

প্রশ্ন সমুহের তালিকা 

১.মানুষ কেন ঘুমায়?

২.বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ঘুমের সময়

৩.ঘুম কত প্রকার ও কি কি?

৩. শক্তি পুনরুদ্ধার


ঘুম শরীরের এনার্জি ব্যালান্স ঠিক রাখে। সারা দিনের কর্মকাণ্ডের পর ঘুম শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করে, যাতে আমরা পরদিন আরও কর্মক্ষম থাকি।


৪. হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা


ঘুমের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন হরমোন (যেমন: মেলাটোনিন, কর্টিসল, গ্রোথ হরমোন) নিয়ন্ত্রিত হয়। কম ঘুম হলে ক্ষুধা-নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা স্থূলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।


৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি


গভীর ঘুমের সময় শরীরে রোগ প্রতিরোধী কোষ সক্রিয় হয়, যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বারবার অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।


৬. মানসিক সুস্থতা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ


ঘুমের অভাবে মানুষের আবেগ ও মনোভাবের ওপর প্রভাব পড়ে। পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক চাপ কমায়, মেজাজ ভালো রাখে এবং বিষণ্নতা ও উদ্বেগ দূর করতে সাহায্য করে।


৭. হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ


গভীর ঘুম হৃদযন্ত্রকে বিশ্রাম নিতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। কম ঘুম উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।


ঘুমের প্রয়োজন ব্যক্তি, বয়স এবং শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। সাধারণত, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭-৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে শিশুদের ও কিশোরদের জন্য বেশি ঘুম দরকার হয়, কারণ তাদের শরীর ও মস্তিষ্কের বিকাশ চলমান থাকে।


বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ঘুমের সময়


১.নবজাতক (০-৩ মাস বয়স): ১৪-১৭ ঘন্টা 

২.শিশু (৪-১১ মাস): ১২-১৬ ঘন্টা 

৩.টডলার (১-২ বছর):  ১১-১৪ ঘন্টা 

৪.প্রাক- বিদ্যালয় শিশু (৩-৫ বছর): ১০-১৩ ঘন্টা 

৫. বিদ্যালয় গামী শিশু (৬-১৩ বছর): ৯-১২ ঘন্টা 

৬.কিশোর (১৪-১৭ বছর): ৮-১০ ঘন্টা 

৭. প্রাপ্ত বয়স্ক (১৮-৬৪ বছর): ৭-৯ ঘন্টা 

৮. বয়স্ক (৬৫+ ): ৭-৮ ঘন্টা 

অতিরিক্ত বা কম ঘুমের প্রভাব


কম ঘুম: ক্লান্তি, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি


অতিরিক্ত ঘুম: অলসতা, বিষণ্নতা, স্থূলতা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে



ভালো ঘুমের জন্য কিছু টিপস:


✔ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান ও জাগ্রত হন

✔ ঘুমানোর আগে ক্যাফেইন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার এড়িয়ে চলুন

✔ নিরিবিলি ও আরামদায়ক পরিবেশে ঘুমান

✔ নিয়মিত ব্যায়াম করুন, তবে রাতের দিকে বেশি ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন।

ঘুম প্রধানত দুই ধরনের হতে পারে:

১. NREM (Non-Rapid Eye Movement) ঘুম

এটি ঘুমের প্রাথমিক স্তর, যেখানে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বিশ্রামে যায়। এটি আবার তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত:

  • Stage 1: খুব হালকা ঘুম, কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়।
  • Stage 2: শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়, হার্টবিট ধীর হয়।
  • Stage 3: গভীর ঘুম, যেখানে শরীর পুনরুদ্ধার হয় ও টিস্যু মেরামত হয়।

২. REM (Rapid Eye Movement) ঘুম

  • এই পর্যায়ে চোখ দ্রুত নড়াচড়া করে এবং স্বপ্ন দেখা হয়।
  • মস্তিষ্ক বেশি সক্রিয় থাকে, স্মৃতিশক্তি সংরক্ষিত হয়।
  • সাধারণত ঘুমের ৯০ মিনিট পর REM ঘুম শুরু হয়।

বিশেষ কিছু ঘুমের ধরন

অনেক সময় ঘুমের ধরন পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে:

  1. প্রাকৃতিক ঘুম – রাতের স্বাভাবিক ঘুম
  2. নাপ (Nap) – দিনের বেলায় স্বল্প সময়ের ঘুম
  3. ইন্দুসড স্লিপ (Induced Sleep) – ওষুধ বা অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে ঘুম
  4. হাইবারনেশন বা গভীর ঘুম – কিছু প্রাণীর দীর্ঘসময় ঘুমানো

সঠিক নিয়মে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম আমাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।



Comments

Popular posts from this blog

Unit B of Jagannath University Total seat number and divided into shift.

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট-বি (কলা ও আইন অনুষদ) 24 25 শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক ( সম্মান) ভর্তি পরীক্ষা ফলাফল অন্য ২৩/৩/২৫ তারিখে প্রকাশ করা হয়েছে প্রত্যেক শিক্ষার্থী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট www.admission.jnu.ac.bd লগইন করে ফলাফল দেখতে পারবে। আগামী ৮/৪/২৫ তারিখ হতে ১৭/৪/২৫ তারিখ পর্যন্ত উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীগণ (www.admission.jnu.ac.bd) উক্ত ওয়েবসাইটে লগইন করে বিষয় পছন্দ (Subject choice) দিতে পারবে।  ইউনিট-A এর শিফট অনুযায়ী আসন বিন্যাস দেখুন   https://learnfortomorrow0.blogspot.com/2025/03/unit-of-jagannath-university-total-seat.html ইউনিট-বি ৩ শিফটে পরীক্ষা হয়েছে।  শিফট-১  মোটা আসন সংখ্যা ২৯৪ টি ।মানবিকের জন্য আসন সংখ্যা ২১৬টি । বিজ্ঞানের জন্য আসন সংখ্যা ৪১ টি ।বাণিজ্যের জন্য আসন সংখ্যা ৩৭ । ইউনিট-বি শিফট-২ মোট আসন সংখ্যা ২৯২ টি। মানবিকের জন্য ২১৮ টি । বিজ্ঞানের জন্য ৩৯ টি  ।বাণিজ্যের জন্য ৩৫টি ।  ইউনিট-বি শিফট-৩ মোট আসন সংখ্যা ১৯৯ টি । মানবিকের জন্য ১২৪ টি । বিজ্ঞানের জন্য ৬৫টি । বাণিজ্যের জন্য ১০টি । ধন্যবাদ।

Unit-A of Jagannath University Total seat number and divided into 3 shift

জগন্নাথ ইউনিভার্সিটিতে বিজ্ঞান বিভাগের জন্য মোট আসন সংখ্যা  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ইউনিট-A স্নাতক (সম্মান ) প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে প্রত্যেক শিক্ষার্থী  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট www.admission.jnu.ac.bd তে লগইন করে ফলাফল দেখতে পারবে । আগামী ৮/৪/২৫ তারিখ হতে ১৭/০৪/২৫ তারিখ পর্যন্ত শিক্ষার্থীগণ উক্ত www.admission.jnu.ac.bd ওয়েবসাইটে লগইন করে সাবজেক্ট চয়েজ (subject choice )দিতে পারবেন । ইউনিট-বি এর শিফট অনুযায়ী আসন বিন্যাস দেখুন https://learnfortomorrow0.blogspot.com/2025/03/unit-b-of-jagannath-university-total.html জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট-A শুধুমাত্র বিজ্ঞান বিভাগের জন্য। ইউনিট -A মোট আসন সংখ্যা ৮৬০ । তিনটি শিফট রয়েছে । এক নাম্বার শিফটে মোট আসন সংখ্যা ২৮৪ টি। দুই নাম্বার শিফটে মোট আসন সংখ্যা ২৮৭টি  এবং ৩ নাম্বার শিফটে মোট আসন সংখ্যা ২৮৯টি।

Symptom of heart attack and prevent it.

 হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো: 1. বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি – এটি বেশিরভাগ সময় বুকের মাঝখানে অনুভূত হয় এবং কয়েক মিনিট বা দীর্ঘসময় ধরে থাকতে পারে। 2. বুক চেপে ধরা বা ভারী অনুভূতি – বুকের মধ্যে চাপ, জ্বালাপোড়া বা সংকোচন অনুভূত হতে পারে। 3. শ্বাসকষ্ট – সামান্য পরিশ্রমেই দম বন্ধ হয়ে আসতে পারে। 4. ঘাম হওয়া – ঠান্ডা ঘাম হতে পারে, যা সাধারণত অস্বাভাবিক এবং উদ্বেগজনক হয়। 5. বমি বমি ভাব বা বমি – অনেকেরই হার্ট অ্যাটাকের সময় বমি বমি ভাব হয় বা বমি হয়। 6. হালকা মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা – মাথা হালকা লাগা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 7. চাপ বা ব্যথা অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়া – অনেক সময় ব্যথা কাঁধ, বাহু (বিশেষত বাঁ হাত), পিঠ, গলা, চোয়াল বা পেটে ছড়িয়ে যেতে পারে। 8. অতিরিক্ত ক্লান্তি – কিছু মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন। প্রতিকারের উপায়: হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুসরণ করা জরুরি। নিচে কিছু কার্যকর প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দেওয়া হলো— ১. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা কম চর্বিযুক্ত ও কম কোলেস্টে...